News » বইমেলার ৭ম দিন Viewed 90 time(s)

আস-আদ মোস্তাফা
08 February, 2010. 04:25 AM

গতকাল ছিল বাংলা একাডেমী আয়োজিত মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলার সপ্তম দিন। বিকেলে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে আলোচনা অনুষ্ঠানে ‘ভাষা-শহীদ রফিক উদ্দিন’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জনাব এম. আব্বাস উদ্দিন আহমদ। আলোচনায় অংশ নেন মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী তোবারক হোসেন ও বাংলা একাডেমীর পরিচালক শাহিদা খাতুন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. আফসার আহমদ।

প্রাবন্ধিক এম. আব্বাস উদ্দিন আহমদ বলেন, তৎকালীন ঢাকা জেলার মানিকগঞ্জ মহকুমার সিংগাইর থানার পারিল বলধারার আব্দুল লতিফ এবং রাফিজা খাতুনের পাঁচ পুত্র ও দুই কন্যার মধ্যে বয়োজ্যোষ্ঠ রফিক ছিলেন ছড়া রচনা, সেলাই ও সূচীশিল্পে দক্ষ। চঞ্চল স্বভাবের সদালাপী, সমাজ সচেতন, অকুতোভয় যোদ্ধা রফিক স্বুল জীবন থেকেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি বলেন, সেদিনের শহীদেরা ছিলেন রক্তবীজ। তাঁদের তাজারক্ত জন্ম দিয়েছিল শত শত সৈনিকের। যে আগুন জ্বলেছিল ঢাকায় সে আগুন ছড়িয়ে যায় সবখানে। এ আন্দোলনের প্রথম শহীদ-পথিকৃৎ ভাষা-শহীদ রফিক একুশের রক্তিম মিছিলে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান। তিনি বলেন, ভাষা-শহীদ রফিকের কবর হারালেও রফিক হারিয়ে যাননি। বাংলা ভাষা সংস্কৃতি যতদিন বেঁচে থাকবে রফিকও ততদিন আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন। ভাষা শহীদ রফিক বিশ্ববাসীর নিকট কালোত্তীর্ণ প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন।

জনাব শাহিদা খাতুন বলেন, মাতৃভাষার জন্য ভালোবাসা থাকাই যথেষ্ট নয়; সে ভালোবাসার প্রকাশ প্রয়োজন। মাতৃভূমি ও মাতৃভাষার মর্যাদাকে সমুন্নত রাখার জন্য প্রয়োজন সচেতন প্রচেষ্টা। অমর একুশে এলে ভাষা-শহীদ বরকত, রফিক আমাদের সে প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ৪৫টি আদিবাসী সমপ্রদায় প্রায় ৩০টি মাতৃভাষায় কথা বলে। যার অনেকগুলো আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। এসব ক্ষুদ্রজাতিসত্তার মাতৃভাষা যাতে হারিয়ে না যায় সেদিকে একুশে ফেব্রুয়ারি আজ চোখ ফিরিয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হয়ে। আমাদের দেশের আদিবাসীদের মাতৃভাষা সংরক্ষণ ও উন্নয়ন নিয়ে কাজ করা জরুরি।

মুক্তিযোদ্ধা তোবারক হোসেন বলেন, পাকিস্তান শাসনামলে ঢাকা শহরের প্রত্যেকটি দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালতের নাম বাংলায় ছিল কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে সে ধরণের কোনো পদক্ষেপ দেখা যায় না। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, প্রাইভেট ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনার মাধ্যম হিসেবে বাংলা ও ইংরেজি সমানভাবে ব্যবহার করলে জাতি অনেকটা এগিয়ে যাবে। আলোচক চলমান শিক্ষাব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বলেন, এটা আমাদের মাতৃভাষা, দেশপ্রেম ও দেশের উন্নয়নে বড়ো বাঁধা। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী ও আধুনিকায়ন করা উচিত।
সভাপতির ভাষণে অধ্যাপক ড. আফসার আহমদ বলেন, ভাষা-আন্দোলনের মধ্যে বাঙালি জাতির উত্থান-পতনের ইতিহাস জড়িয়ে আছে। এই আন্দোলন এখন কৃত্যে পরিণত হয়েছে যার হাত ধরে বছরের একটি দিন হলেও আমরা শিকড়ের কাছে ফিরে যেতে চাই। তিনি বলেন, বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা অবশ্যই ভাষা-শহীদের লাল রক্ত বহন করছে যার সম্মান রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সকলের। সভাপতি বলেন, অমর একুশে আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে পরিণত হয়েছে। এটা অবশ্যই আমাদের জাতীয় জীবনে একটা বড় অর্জন। আমাদের আত্মমহিমায় অধিষ্ঠিত হতে হলে ভাষা-শহীদদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী শাহীন সামাদ, নাশিদ কামাল, নীলোৎপল সাধ্য, আজগর আলীম, মোঃ নূরুল ইসলাম, তালুকদার জান্নান হোসেন, নারায়ণ চন্দ্র শীল প্রমুখ। আবৃত্তি পরিবেশন করে প্রকাশ সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠন। যন্ত্রাণুসঙ্গে ছিলেন শিল্পী বেণু চক্রবর্তী, আলমাস আলী, মোঃ মনিরুজ্জামান, রতন কুমার রায় ও সুনীল সরকার।

আজকের নতুন বই : ৯৫টি