News » বাংলা সাহিত্যের অনুবাদ : চীনা ভাষায় Viewed 135 time(s)

আস-আদ মোস্তাফা
28 February, 2010. 01:52 AM

গতকাল সকাল ১১:০০টায় অমর একুশে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘বাংলা সাহিত্যের অনুবাদ : চীনা ভাষায়’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চীন আন্তর্জাতিক বেতার (সিআরআই)-এর কর্মকর্তা ও সিআরআই-এসএমএফ কনফুসিয়াস ক্লাস রুম, ঢাকা-এর পরিচালক ইয়াং ওয়েইমিং (স্বর্ণা)। আলোচনায় অংশ নেন সহকারী অধ্যাপক মোঃ আফজাল হোসেন, বাংলাদেশস্থ চীনা দূতাবাসের কালচারাল অ্যাটাশে ছাও ইয়েনহুয়া এবং সিআরআই-এসএমএফ কনফুসিয়াস ক্লাস রুম, ঢাকা-এর কনসালটেন্ট মহিউদ্দিন তাহের। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক আহমদ কবির।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলা ভাষা বাংলাদেশের বাইরে সবচেয়ে বেশি চর্চা হয় চীনে। বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে চীনের পাঠকদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বিশ শতকের গোড়ার দিকে এশিয়ার প্রথম নোবেল বিজয়ী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনন্য লেখার ইংরেজি অনুবাদের মাধ্যমে। বাংলা সাহিতকর্ম চীনা ভাষায় অনূদিত এবং চীনে এটি সমাদৃত হওয়ার পেছনে যাঁরা সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন তাঁদের মধ্যে পাই খাই ওয়াং উল্লেখযোগ্য। এরকম শ্রমসাধ্য কর্ম সম্পাদনে তাঁরা যে ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন তা প্রশংসার দাবিদার। আমাদের উচিত হবে চীনা ভাষার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মগুলো বাংলায় অনুবাদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সাহিত্যভাণ্ডার সমৃদ্ধ করা।

সকাল ১১:৩০টায় একাডেমীর সেমিনার কক্ষে ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ও প্রাসঙ্গিক বিষয়’ শীর্ষক মত বিনিময় সভায় বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, সচিব মোঃ আলতাফ হোসেন, গ্রন্থমেলা ২০১০-এর পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও একাডেমীর পরিচালক শাহিদাখাতুনসহ একাডেমীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমীর সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, বিশিষ্ট সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হক, চিত্রশিল্পী হাশেম খান, ভাষা-সৈনিক আহমেদ রফিক, টাস্কফোর্স-এর সদস্য সচিব মনজুরুর রহমান, ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য শুভাষ সিংহ, গবেষক অধ্যাপক আবুল আহসান চৌধুরী, অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজমুদার, ছড়াকার আহমদ মাযহার, বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল পুস্তক প্রকাশক সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ, আগামী প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ওসমান গণি, ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ পত্রিকার সম্পাদক রাহাত খান, অন্বেষা প্রকাশের স্বত্বাধিকারী শাহাদাত হোসেন, অনন্যা প্রকাশের স্বত্বাধিকারী মনিরুল হক, কবি নাসির আহমেদ, সময় প্রকাশনার স্বত্বাধিকারী ফরিদ আহমেদ, প্রবাসী লেখক ইকবাল হাসান প্রমুখ।

মত বিনিময় সভায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, অমর একুশে গ্রন্থমেলা আয়োজনের নেতৃত্ব বাংলা একাডেমীকে নিতে হবে। কারণ এই মেলার সাথে জড়িয়ে আছে ভাষা আন্দোলনের আবেগ এবং এর পরিসর বাড়ানোসহ মেলাকে আরও পরিচ্ছন্ন করতে একাডেমীকেই প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে।
বিকেল ৪:০০টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা একাডেমীর সাহিত্য পুরস্কার ২০০৯ প্রদান করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন- ‘ক’ বিভাগ : কবিতায় অরুণাভ সরকার ও রবিউল হুসাইন, ‘খ’ বিভাগ : উপন্যাসে আনোয়ারা সৈয়দ হক ও সুশান্ত মজুমদার, ‘গ’ বিভাগ : গবেষণায় ড. আবুল আহসান চৌধুরী এবং  ‘ঘ’ বিভাগ শিশুসাহিত্যে রফিকুল হক। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা ভাষণ দেন একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে সম্মাননা পত্র, ক্রেস্ট এবং এক লক্ষ টাকা মূল্যমানের চেক তুলে দেন একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান অনুষ্ঠানের সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী।
বিকেল ৫:০০টায় ‘নাইবউদ্দিন আহমেদ, নওয়াজেশ আহমদ এবং সাঈদ আহমদ’ স্মরণ সভায় আলোচনা করেন বাংলা একাডেমীর ফেলো অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মা এবং দৃক গ্যালারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহিদুল আলম। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমীর ফেলো অধ্যাপক সন্‌জীদা খাতুন।

সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শিমুল মোস্তফা। সংগীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী মনোরঞ্জন ঘোষাল, ফাতেমা-তুজ-জোহরা, অদিতি মহসিন, বিশ্বজিৎ রায়, চঞ্চল খান, সুমন মজুমদার, সুমিতা চক্রবর্তী এবং নার্গিস রহমান। যন্ত্রাণুসঙ্গে ছিলেন শিল্পী ইফতেখার আলম প্রধান, আলমাস আলী, মোঃ মনিরুজ্জামান, অনুপম বিশ্বাস এবং এস. এম. রফিকুল আজাদ।

গতকালের নতুন বই : ১৩২টি  ॥  এবারের গ্রন্থমেলায় সর্বমোট নতুন বই : ৩,২৬০টি