News » একুশে গ্রন্থমেলা ২০১০-এর শেষ দিন Viewed 138 time(s)
আস-আদ মোস্তাফা
01 March, 2010. 12:44 PM
গতকাল রবিবার ছিল অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১০-এর শেষ দিন। বিকেল ৪:৩০টায় সূচনা সংগীতের মধ্যদিয়ে শুরু হয় সমাপনী অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা ভাষণ দেন বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। গ্রন্থমেলা ২০১০-এর প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১০-এর পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব ও বাংলা একাডেমীর পরিচালক শাহিদা খাতুন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ব্রাক ব্যাংক লিমিটেড-এ উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মাহবুবুর রহমান এবং স্টেপ মিডিয়া লিমিটেড-এর পরিচালক মোস্তফা জাহিদ খান। সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমীর সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী।
সমাপনী অনুষ্ঠানে গ্রন্থমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের স্টল-অঙ্গসজ্জার জন্য ‘টইটম্বুর’, ‘কথা প্রকাশ’ ‘মাওলা ব্রাদার্স’-কে ‘সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার’ প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে সেরা গ্রন্থ ‘মেঘমল্লার’ গ্রন্থের জন্য বিজয় প্রকাশ, ‘মুক্তিযুদ্ধ সমগ্র-১’ গ্রন্থের জন্য সুবর্ণ এবং ‘শহীদুল জহির স্মারক গ্রন্থ’-এর জন্য পাঠক সমাবেশ-কে ‘চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার’ প্রদান করা হয়। সর্বাধিক সংখ্যক গ্রন্থ ক্রয়ের জন্য জনাব নজরুল ইসলাম এবং ডা. ফাতেমা আমীন-কে ‘পলান সরকার পুরস্কার’ প্রদান করা হয় এবং ‘বইমেলা প্রতিদিন’ বুলেটিন প্রকাশের জন্যআনন্দ আলো-কে ‘মোহাম্মদ নূরুল হক গ্রন্থ সুহৃদ পুরস্কার’ প্রদান করা হয়।
শুভেচ্ছা ভাষণে বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, আজকের এই দিনটি একইসাথে বেদনার এবং আনন্দের। এই মেলা আমাদের সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে নবজাগরণের সূচনা। পৃথিবীর আর কোথাও মাসব্যাপী এমন অমর একুশে গ্রন্থমেলা অনুষ্ঠিত হয় না। বাঙালির আবেগের এই মেলা এদেশের সকল মানুষকে উজ্জীবিত করছে। মাসব্যাপী গ্রন্থপ্রেমী মানুষের পদচারণায় মুখরিত প্রাঙ্গণ দেখে আমার মনে হয়, বাঙালি শুধু অকুতোভয়ই নয়, সাংস্কৃতিক অভিযাত্রায়ও তাদের অহংকারকে যুক্ত করতে খুবই আন্তরিক। মেলায় আগত বুদ্ধিজীবী, লেখক, পাঠক, প্রকাশকসহ সকলকে কৃতজ্ঞতা জানাই।
প্রধান অতিথির ভাষণে মাননীয় তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, বাংলা একাডেমীর এই মেলা শুধু বইমেলাই নয়, বাঙালি ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এই মেলা মানুষের মনে স্থান করে নিয়েছে। তাই লক্ষ লক্ষ মানুষ ফেব্রুয়ারি মাসের অপেক্ষায় থাকে বইমেলার জন্য। এই মেলাতে আসা শিঁকড়ে ফিরে আসার মতই। আমি মনে করি, এই মেলা আয়োজনের মাধ্যমে বাংলা একাডেমী বাঙালি জাতিকে ঐতিহ্যসচেতন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রতিবেদনে জনাব শাহিদা খাতুন বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে যে সাংস্কৃতিক জাগরণের সূচনা হয়, তার প্রাথমিক অভিব্যক্তি বাংলা একাডেমীর অমর একুশে গ্রন্থমেলা। এই গ্রন্থমেলাকে উপলক্ষ্য করে কেবল দেশের নানাপ্রান্ত থেকে নয়, দেশের বাইরে থেকেও বাংলা ভাষাভাষী গ্রন্থপ্রেমী মানুষেরা এই মেলায় আসেন। এই মেলাকে ঘিরে প্রতিনিয়ত যেমন সচেতন পাঠক সৃষ্টি হচ্ছে তেমনি বৃদ্ধি পাচ্ছে নতুন নতুন এবং সৃজনশীল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানও। তিনি বলেন, সকল শ্রেণীর লেখক-পাঠক-ক্রেতা-দর্শনার্থীসহ পুরো মাসে প্রায় ৬০ লক্ষ বইপ্রেমী মানুষ গ্রন্থমেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন এবং পুরো মেলায় প্রায় ২০ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছে। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রন্থমেলাকে পৌঁছে দিতে এ বছর প্রযুক্তিগত সুবিধাকে আরও বেশি জোরদার করা হয়।
সভাপতির ভাষণে অধ্যাপক কবীর চৌধুরী বলেন, অসামপ্রদায়িক, ধর্ম নিরপেক্ষ, বিজ্ঞানমনস্ক, প্রগতিশীলদের মিলন কুঞ্জে পরিণত হয়েছে বাংলা একাডেমীর এই অমর একুশে গ্রন্থমেলা। এবারের মেলা বিগত সময় থেকে অনেক বেশি প্রাণোচ্ছল ছিল। এবং নান্দনিক আয়োজনের কারণে পাঠক বা গ্রন্থপ্রেমী মানুষ তাদের পছন্দের বইটি কিনতে পেরেছে। মেলার সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলকে ধন্যবাদ জানাই।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী শিমুল ইউসুফ, রথীন্দ্রনাথ রায়, শামা রহমান, নমিতা ঘোষ, রফিকুল আলম, ইফফাত আরা দেওয়ান, সুজিত মোস্তফা, ফারহানা ফেরদৌস তানিয়া, শফিউল আলম রাজা প্রমুখ। যন্ত্রাণুসঙ্গে ছিলেন শিল্পী বিশ্বজিৎ সরকার, মোঃ আলগীর, আবু কামাল, গাজী আবদুল হাকিম, মোঃ সোলায়মান এবং সুনীল কুমার সরকার।
গতকালের নতুন বই : ৯৪টি ॥ এবারের গ্রন্থমেলায় সর্বমোট নতুন বই : ৩,৩৫৪টি
সমাপনী অনুষ্ঠানে গ্রন্থমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের স্টল-অঙ্গসজ্জার জন্য ‘টইটম্বুর’, ‘কথা প্রকাশ’ ‘মাওলা ব্রাদার্স’-কে ‘সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার’ প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে সেরা গ্রন্থ ‘মেঘমল্লার’ গ্রন্থের জন্য বিজয় প্রকাশ, ‘মুক্তিযুদ্ধ সমগ্র-১’ গ্রন্থের জন্য সুবর্ণ এবং ‘শহীদুল জহির স্মারক গ্রন্থ’-এর জন্য পাঠক সমাবেশ-কে ‘চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার’ প্রদান করা হয়। সর্বাধিক সংখ্যক গ্রন্থ ক্রয়ের জন্য জনাব নজরুল ইসলাম এবং ডা. ফাতেমা আমীন-কে ‘পলান সরকার পুরস্কার’ প্রদান করা হয় এবং ‘বইমেলা প্রতিদিন’ বুলেটিন প্রকাশের জন্যআনন্দ আলো-কে ‘মোহাম্মদ নূরুল হক গ্রন্থ সুহৃদ পুরস্কার’ প্রদান করা হয়।
শুভেচ্ছা ভাষণে বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, আজকের এই দিনটি একইসাথে বেদনার এবং আনন্দের। এই মেলা আমাদের সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে নবজাগরণের সূচনা। পৃথিবীর আর কোথাও মাসব্যাপী এমন অমর একুশে গ্রন্থমেলা অনুষ্ঠিত হয় না। বাঙালির আবেগের এই মেলা এদেশের সকল মানুষকে উজ্জীবিত করছে। মাসব্যাপী গ্রন্থপ্রেমী মানুষের পদচারণায় মুখরিত প্রাঙ্গণ দেখে আমার মনে হয়, বাঙালি শুধু অকুতোভয়ই নয়, সাংস্কৃতিক অভিযাত্রায়ও তাদের অহংকারকে যুক্ত করতে খুবই আন্তরিক। মেলায় আগত বুদ্ধিজীবী, লেখক, পাঠক, প্রকাশকসহ সকলকে কৃতজ্ঞতা জানাই।
প্রধান অতিথির ভাষণে মাননীয় তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, বাংলা একাডেমীর এই মেলা শুধু বইমেলাই নয়, বাঙালি ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এই মেলা মানুষের মনে স্থান করে নিয়েছে। তাই লক্ষ লক্ষ মানুষ ফেব্রুয়ারি মাসের অপেক্ষায় থাকে বইমেলার জন্য। এই মেলাতে আসা শিঁকড়ে ফিরে আসার মতই। আমি মনে করি, এই মেলা আয়োজনের মাধ্যমে বাংলা একাডেমী বাঙালি জাতিকে ঐতিহ্যসচেতন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রতিবেদনে জনাব শাহিদা খাতুন বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে যে সাংস্কৃতিক জাগরণের সূচনা হয়, তার প্রাথমিক অভিব্যক্তি বাংলা একাডেমীর অমর একুশে গ্রন্থমেলা। এই গ্রন্থমেলাকে উপলক্ষ্য করে কেবল দেশের নানাপ্রান্ত থেকে নয়, দেশের বাইরে থেকেও বাংলা ভাষাভাষী গ্রন্থপ্রেমী মানুষেরা এই মেলায় আসেন। এই মেলাকে ঘিরে প্রতিনিয়ত যেমন সচেতন পাঠক সৃষ্টি হচ্ছে তেমনি বৃদ্ধি পাচ্ছে নতুন নতুন এবং সৃজনশীল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানও। তিনি বলেন, সকল শ্রেণীর লেখক-পাঠক-ক্রেতা-দর্শনার্থীসহ পুরো মাসে প্রায় ৬০ লক্ষ বইপ্রেমী মানুষ গ্রন্থমেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন এবং পুরো মেলায় প্রায় ২০ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছে। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রন্থমেলাকে পৌঁছে দিতে এ বছর প্রযুক্তিগত সুবিধাকে আরও বেশি জোরদার করা হয়।
সভাপতির ভাষণে অধ্যাপক কবীর চৌধুরী বলেন, অসামপ্রদায়িক, ধর্ম নিরপেক্ষ, বিজ্ঞানমনস্ক, প্রগতিশীলদের মিলন কুঞ্জে পরিণত হয়েছে বাংলা একাডেমীর এই অমর একুশে গ্রন্থমেলা। এবারের মেলা বিগত সময় থেকে অনেক বেশি প্রাণোচ্ছল ছিল। এবং নান্দনিক আয়োজনের কারণে পাঠক বা গ্রন্থপ্রেমী মানুষ তাদের পছন্দের বইটি কিনতে পেরেছে। মেলার সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলকে ধন্যবাদ জানাই।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী শিমুল ইউসুফ, রথীন্দ্রনাথ রায়, শামা রহমান, নমিতা ঘোষ, রফিকুল আলম, ইফফাত আরা দেওয়ান, সুজিত মোস্তফা, ফারহানা ফেরদৌস তানিয়া, শফিউল আলম রাজা প্রমুখ। যন্ত্রাণুসঙ্গে ছিলেন শিল্পী বিশ্বজিৎ সরকার, মোঃ আলগীর, আবু কামাল, গাজী আবদুল হাকিম, মোঃ সোলায়মান এবং সুনীল কুমার সরকার।
গতকালের নতুন বই : ৯৪টি ॥ এবারের গ্রন্থমেলায় সর্বমোট নতুন বই : ৩,৩৫৪টি