News » ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন Viewed 46 time(s)
আস-আদ মোস্তাফা
12 July, 2010. 01:58 AM
জ্ঞানতাপস ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে বাংলা একাডেমী আজ ২৭শে আষাঢ় ১৪১৭/১১ই জুলাই ২০১০ রবিবার বিকেল ৪টায় একাডেমীর সেমিনার কক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র অভিধান চর্চা শীর্ষক প্রবন্ধ উপস'াপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. স্বরোচিষ সরকার। আলোচনায় অংশ নেন বাংলা একাডেমীর ফেলো, বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন ও লেখক, গবেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জীনাত ইমতিয়াজ আলী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, বাংলা একাডেমীর ফেলো অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।
প্রাবন্ধিক ড. স্বরোচিষ সরকার বলেন, অভিধানের সঙ্গে প্রতিতুলিত মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বাস-ব জীবনে অভিধান চর্চার সঙ্গে নিজেকে কতোটা জড়িত করেছিলেন, নিশ্চয়ই তা অগ্রাহ্যব্যঞ্জকতা দাবি করতে পারে। তিনি বিশ্বাস করতেন শব্দের অভিধা বাক্যসাপেক্ষ, তাই অভিধান তৈরি করতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন লিখিত সাহিত্য থেকে বাক্য চয়ন করা এবং চয়িত বাক্যের মধ্যকার শব্দ বিশ্লেষণ করার পর তার অর্থ নির্ণয় করা। তিনি চেয়েছিলেন নির্বাচিত সাহিত্য থেকে কালানুক্রম অনুযায়ী শব্দ সংগ্রহ করতে। কারণ তিনি জানতেন, কালের পরিবর্তনে শব্দের অর্থের পরিবর্তন হয় আর পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ অভিধানগুলোতে এভাবেই শব্দ সংগৃহীত হয়ে থাকে। তিনি বলেন, অভিধানের আদর্শ সম্পর্কে মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র সুনির্দিষ্ট ধারণা ছিল। সেই ধারণা অনুযায়ী বাংলা অভিধান প্রণীত হোক, তা তিনি প্রত্যাশা করতেন। এমনকি বয়সের পরিবর্তনেও সে প্রত্যাশায় কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। তিনি আরও বলেন, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ মারা গেছেন ৪১ বছর আগে। ৪১ বছর ধরে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতি তাঁর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে যাচ্ছে। কিন' ‘ঐতিহাসিক প্রণালীক্রমে সজ্জিত’ যে অভিধান তিনি চেয়েছিলেন, তা প্রণয়নের কোনো উদ্যোগ কখনো গ্রহণ করা হয়নি; না বাংলাদেশে না পশ্চিমবঙ্গে। অথচ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র কাঙ্ক্ষিত সেই অভিধান প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে তাঁর প্রতি তাঁর পরবর্তী প্রজন্মের শ্রদ্ধা সর্বোচ্চ উপায়ে নিবেদিত হতে পারতো।
অধ্যাপক জীনাত ইমতিয়াজ আলী বলেন, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র আনন্দ ছিল ঐতিহাসিক ভাষা-বিজ্ঞান চর্চায়। বাংলা উপভাষা সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান ছিল প্রখর। নিজের প্রেরণায় শব্দারণ্য থেকে প্রয়োজনীয় শব্দগুলোকে চয়ন করে আনুষঙ্গিক তথ্যসমূহ সংগ্রহ করে তিনি যত্নসহকারে অভিধান প্রণয়ন করেছেন। অভিধানকে আমরা একালে যখন প্রায়োগিক ভাষা-বিজ্ঞানের মধ্যে অন-র্ভুক্ত করছি ঐতিহাসিক ভাষা-বিজ্ঞানের লোক হয়েও ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ এর বহু দিক স্পর্শ করেছেন এবং আমাদের দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, যদি অভিধান না থাকে তাহলে একটি জাতীয় ইতিহাস পরিপূর্ণ হয় না। আমাদের বাংলা ভাষার আসলে কোনো অভিধান নেই; বিশেষত বাংলাদেশের বাংলা ভাষার। এই অভিধান প্রণয়ন করার দায়িত্ব বাংলা একাডেমীকেই গ্রহণ করতে হবে। আর অভিধান প্রণয়নের কাজে নিজ নিজ অবস'ান থেকে সকলের সহায়তা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের আঞ্চলিক ভাষার অভিধানটি এখনও অসম্পূর্ণ। যা সম্পূর্ণ করার দায়িত্বও বাংলা একাডেমীকে নিতে হবে।
কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেন, অভিধান চর্চার মাধ্যমে জাতি তার স্বকীয়তা খুঁজে পায়। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ অভিধান চর্চার মধ্য দিয়ে আমাদের জাতিসত্তার অসি-ত্ব তুলে এনেছেন। তিনিই আমাদের বুঝিয়েছেন, মাতৃভাষা ভালোবাসার মধ্য দিয়ে অভিধান চর্চা কতটা শুভকর। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ মনে করতেন, মাতা, মাতৃভাষা এবং মাতৃভূমি - এই তিনটি পরম শ্রদ্ধার বিষয় ছাড়া মানুষ তার জাতিগত সত্তা খুঁজে পায় না এবং মানুষ যদি তার জাতিগত সত্তা খুঁজে না পায় তাহলে তার মাতৃভাষা, তার অভিধান চর্চা, তার শিল্প-সাহিত্য-সাংস্কৃতিক বোধ কোনোকিছুই একটা নির্ধারিত মাত্রায় নির্দিষ্ট হতে পারে না।
সভাপতির ভাষণে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, আঞ্চলিক ভাষার অভিধান সংকলন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র এক অমর কীর্তি। আঞ্চলিক ভাষার অভিধানের প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে তিনি প্রথম থেকেই নিঃসংকোচ ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, যদি উপভাষার অভিধান ঠিকমতো রচিত হয় এবং এখনকার উপভাষার ভিত্তিতে আমরা ভাষার ইতিহাস পুনর্গঠন করতে পেছন দিকে যেতে পারি তাহলে তাঁর গৌড়ী প্রাকৃত অপভ্রংশ থেকে বাংলার উৎপত্তির ধারণাটা সমর্থিত হবে। সভাপতি বলেন, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ যা করে গেছেন তারজন্য আমরা তাঁর কাছে চিরঋণী।
প্রাবন্ধিক ড. স্বরোচিষ সরকার বলেন, অভিধানের সঙ্গে প্রতিতুলিত মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বাস-ব জীবনে অভিধান চর্চার সঙ্গে নিজেকে কতোটা জড়িত করেছিলেন, নিশ্চয়ই তা অগ্রাহ্যব্যঞ্জকতা দাবি করতে পারে। তিনি বিশ্বাস করতেন শব্দের অভিধা বাক্যসাপেক্ষ, তাই অভিধান তৈরি করতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন লিখিত সাহিত্য থেকে বাক্য চয়ন করা এবং চয়িত বাক্যের মধ্যকার শব্দ বিশ্লেষণ করার পর তার অর্থ নির্ণয় করা। তিনি চেয়েছিলেন নির্বাচিত সাহিত্য থেকে কালানুক্রম অনুযায়ী শব্দ সংগ্রহ করতে। কারণ তিনি জানতেন, কালের পরিবর্তনে শব্দের অর্থের পরিবর্তন হয় আর পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ অভিধানগুলোতে এভাবেই শব্দ সংগৃহীত হয়ে থাকে। তিনি বলেন, অভিধানের আদর্শ সম্পর্কে মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র সুনির্দিষ্ট ধারণা ছিল। সেই ধারণা অনুযায়ী বাংলা অভিধান প্রণীত হোক, তা তিনি প্রত্যাশা করতেন। এমনকি বয়সের পরিবর্তনেও সে প্রত্যাশায় কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। তিনি আরও বলেন, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ মারা গেছেন ৪১ বছর আগে। ৪১ বছর ধরে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতি তাঁর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে যাচ্ছে। কিন' ‘ঐতিহাসিক প্রণালীক্রমে সজ্জিত’ যে অভিধান তিনি চেয়েছিলেন, তা প্রণয়নের কোনো উদ্যোগ কখনো গ্রহণ করা হয়নি; না বাংলাদেশে না পশ্চিমবঙ্গে। অথচ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র কাঙ্ক্ষিত সেই অভিধান প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে তাঁর প্রতি তাঁর পরবর্তী প্রজন্মের শ্রদ্ধা সর্বোচ্চ উপায়ে নিবেদিত হতে পারতো।
অধ্যাপক জীনাত ইমতিয়াজ আলী বলেন, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র আনন্দ ছিল ঐতিহাসিক ভাষা-বিজ্ঞান চর্চায়। বাংলা উপভাষা সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান ছিল প্রখর। নিজের প্রেরণায় শব্দারণ্য থেকে প্রয়োজনীয় শব্দগুলোকে চয়ন করে আনুষঙ্গিক তথ্যসমূহ সংগ্রহ করে তিনি যত্নসহকারে অভিধান প্রণয়ন করেছেন। অভিধানকে আমরা একালে যখন প্রায়োগিক ভাষা-বিজ্ঞানের মধ্যে অন-র্ভুক্ত করছি ঐতিহাসিক ভাষা-বিজ্ঞানের লোক হয়েও ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ এর বহু দিক স্পর্শ করেছেন এবং আমাদের দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, যদি অভিধান না থাকে তাহলে একটি জাতীয় ইতিহাস পরিপূর্ণ হয় না। আমাদের বাংলা ভাষার আসলে কোনো অভিধান নেই; বিশেষত বাংলাদেশের বাংলা ভাষার। এই অভিধান প্রণয়ন করার দায়িত্ব বাংলা একাডেমীকেই গ্রহণ করতে হবে। আর অভিধান প্রণয়নের কাজে নিজ নিজ অবস'ান থেকে সকলের সহায়তা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের আঞ্চলিক ভাষার অভিধানটি এখনও অসম্পূর্ণ। যা সম্পূর্ণ করার দায়িত্বও বাংলা একাডেমীকে নিতে হবে।
কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেন, অভিধান চর্চার মাধ্যমে জাতি তার স্বকীয়তা খুঁজে পায়। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ অভিধান চর্চার মধ্য দিয়ে আমাদের জাতিসত্তার অসি-ত্ব তুলে এনেছেন। তিনিই আমাদের বুঝিয়েছেন, মাতৃভাষা ভালোবাসার মধ্য দিয়ে অভিধান চর্চা কতটা শুভকর। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ মনে করতেন, মাতা, মাতৃভাষা এবং মাতৃভূমি - এই তিনটি পরম শ্রদ্ধার বিষয় ছাড়া মানুষ তার জাতিগত সত্তা খুঁজে পায় না এবং মানুষ যদি তার জাতিগত সত্তা খুঁজে না পায় তাহলে তার মাতৃভাষা, তার অভিধান চর্চা, তার শিল্প-সাহিত্য-সাংস্কৃতিক বোধ কোনোকিছুই একটা নির্ধারিত মাত্রায় নির্দিষ্ট হতে পারে না।
সভাপতির ভাষণে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, আঞ্চলিক ভাষার অভিধান সংকলন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র এক অমর কীর্তি। আঞ্চলিক ভাষার অভিধানের প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে তিনি প্রথম থেকেই নিঃসংকোচ ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, যদি উপভাষার অভিধান ঠিকমতো রচিত হয় এবং এখনকার উপভাষার ভিত্তিতে আমরা ভাষার ইতিহাস পুনর্গঠন করতে পেছন দিকে যেতে পারি তাহলে তাঁর গৌড়ী প্রাকৃত অপভ্রংশ থেকে বাংলার উৎপত্তির ধারণাটা সমর্থিত হবে। সভাপতি বলেন, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ যা করে গেছেন তারজন্য আমরা তাঁর কাছে চিরঋণী।