সুকুমার রায়
শিশু-কিশোর পাঠকদের কাছে সুকুমার রায় একটি প্রিয় নাম। তাঁর 'আবোল তাবোল',
'হ-য-ব-র-ল' ও অন্যান্য অতুলনীয় লেখার জন্য তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
সুকুমার রায় বিখ্যাত শিশু-সাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরীর পুত্র এবং
বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার সাহিত্যিক সত্যজিৎ রায়ের পিতা।
সুকুমার রায় এর জন্ম কলকাতায় ১৮৮৭ খ্রিষ্টাব্দের ৩রা অক্টোবর। তাঁদের আদি
নিবাস ছিল ময়মনসিংহের মসুয়া গ্রামে। সুকুমার রায়ের মৃত্যু হয় ১৯২৪
খ্রিষ্টাব্দের ৯ই সেপ্টেম্বর।
সুকুমার রায় ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তিনি একদিকে বিজ্ঞান,
ফটোগ্রাফি ও মুদ্রণ প্রকৌশলে উচ্চশিক্ষা নিয়েছিলেন। অন্যদিকে ছড়া, রচনা ও
ছবি আঁকায় মৌলিক প্রতিভা ও উদ্ভাবনী শক্তির পরিচয় দিয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ও
অবনীন্দ্রনাথের সঙ্গে 'গোড়ায় গলদ' নাটকে অভিনয়ও করেছিলেন তিনি।
প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়ার সময় তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এক অদ্ভুত ক্লাব।
নাম-ননসেন্স ক্লাব। এই ক্লাবের পত্রিকার নাম ছিল 'সাড়ে বত্রিশ ভাজা'। আর
তাঁর রচনাগুলোও অদ্ভুত। হাসজারু, বকচ্ছপ, সিংহরিণ, হাতিমি ইত্যাদি অদ্ভুত
কাল্পনিক প্রাণীর নাম তাঁরই সৃষ্টি। তিনি বাংলা সাহিত্যে ননসেন্স এর
প্রবর্তক। ছোটদের মতো করে ছোটদের জন্য সবাই লিখতে পারেন না। তবে সুকুমার
রায় পেরেছেন। আর পেরেছেন বলেই আজও তার একটুও আদর কমেনি পাঠকের মন থেকে।
বিখ্যাত 'সন্দেশ' পত্রিকা বেশ কয়েক বছর সম্পাদনা করেছেন সুকুমার রায়। আর
এটিকে কেন্দ্র করেই ঐ সময় সুকুমার রায়ের সাহিত্য প্রতিভা পূর্ণ বিকশিত
হয়েছিল। সুকুমার রায় বাংলা সাহিত্যে অমর হয়ে আছেন প্রধানত খেয়াল-রসের
কবিতা, হাসির গল্প, নাটক ইত্যাদি শিশুতোষ রচনার জন্য। ছেলেবুড়ো সবাই তাঁর
লেখা পড়ে আনন্দ পায়।
- সুকুমার রায়
- জন্ম
- ৩ অক্টোবর, ১৮৮৭
- মৃত্যু
- ৯ সেপ্টেমবর, ১৯২৪