লেখালেখি » উপন্যাস » কয়েক টুকরো কৈশোর(৭ম পর্ব) প্রদর্শিত হয়েছে ৩৫১ বার

৩০   |   ৬০   |   ৯০   |   ১২০   |   ১৫০   টি করে

Taamer Kabirr
18 March, 2012. 05:55 PM

-তাহলে খারাপ থাকার কথা বলছিস কেন? চাকরি কেমন চলছে?
-সে জন্যেই বললাম
চাকরিটা, জানোই তো ছোট, অল্প বেতনআইএইচ কোম্পানীতে একটা ওপেনিং আছে, তোমাকে বলব ভাবছিলামযদি একটু দেখ
হক
, হাকিম সাহেব একই ক্লাসে পড়তেন ইয়্যুনুভার্সিটিতে
হাকিম বললেন-কি পোস্ট
?
-অ্যাকাউন্টেন্ট
-কবে নেবে
?
-গতকালই ইন্টারভিউ হয়েছে

-ও
, তাহলে তো হাতে সময় বেশি নেই
-হ্যাঁ
, তুমি একটু তাকে বললেই হয়ে যাবে
-আচ্ছা বলব
বাদলের চাকরিটা হয়েছে?
বাদল ওদের মামাতো ভাই
, ছোটটাএপিআইতে চাকরির জন্য হাকিম সাহেবই তদবির করেছিলেনতিনি অনেক মানুষকে চেনেন, অনেক প্রতিষ্ঠিত এবং সাধারণ মানুষকেএবং সবাই তাকে সৎ মানুষ হিসেবে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করেতদবিরের জন্য তাই তাদের আত্মীয় থেকে শুরু করে সামান্য পরিচিতও অনেকে আসে তার কাছেতিনি wbt¯^v_©fv‡e তাদের সাহায্য করেন
মোর্শেদ বলে-হ্যাঁ
হয়েছে ভাইয়া
-বাহ্‌
ভালোবেতন কত?
-বার হাজার

-এখন তো বোধহয় প্রবেশন পিরিয়ড

-হ্যাঁ
দু মাস পরে পারমানেন্ট হলে এক লাফে আঠারো বিশ হাজার হয়ে যাবেখুব ভালো, ওরা খুব খুশি
-চাকরিটা ওকে মন দিয়ে করতে বল্‌

-বলব ভাইয়া।... পরশু সাহেদ ভাইয়ার বাসায় গিয়েছিলামতিনি কথা বলতে পারেন না এখন
শাহেদ তাদের আরেক কাজিন
পক্ষাঘাতে ওর একপাশ অবশ হয়ে গেছে হাকিম সাহেব বললেন-খুব ভালো ছেলেও ছোট বেলায় খুব গাধা টাইপের ছিল, নাক দিয়ে সব সময় সর্দি পড়তো, এ নিয়ে আমরা কত ক্ষেপাতামআর সে রেগে মেগে, সে এক অবস্থা আরকিওর হঠাৎ একি হলআমার জ্বর ভালো হলে দেখতে যাব
-সিঙ্গাপুর নিয়ে যাচ্ছে আবার
, শুনলাম
-আমাদেরও সময় হয়ে আসছে মনে হয়ভয় লাগেতানুর কী হবে যদি কিছু হয়ে যায়? সে আমার শেষ বয়েসের সন্তানমাঝে মাঝে মনে হয় বিয়ের পরপর হলে কত ভালো হতো
মোরশেদ কিছু বলল না কথার পিঠে
তানজিলা ঝড়ের মতো উদয় হল সে ঘরে একটু বাদেই, ছোট চাচা খেয়ে যাবে দুপুরে?
-রান্না কে করবে? তুই নাকি?
-হ্যাঁ

-আমার পুরো ভবিষ্যৎ সামনে পড়ে আছে
এখনই মরার কোনো ইচ্ছা নাই
-আহা
, তুমি তিনবেলা কী খাও আমার জানা আছেতাড়াতাড়ি বল, আমি রান্না সেরে পড়তে যাবকোচিং আছে
-আচ্ছা, বলছিস যখন দে দেখি কী রাধিস  

***


 
মিঠু স্যারের বাসাটা কাছেই, শাহজাহানপুরবাসাবো রেল ক্রসিং-এ অনেক জ্যামএই টুকু রাস্তা পেরুতেই পঁয়তাল্লিশ মিনিটের মতো লাগল মিঠু স্যার বেশ বেঁটে, পাঁচ ফুট হবেন সব মিলিয়েসব সময় পান চাবাচ্ছেন বলে তার ঠোঁট অর্ধেক লাল, অর্ধেক গরুর কলিজার রঙেরঠোঁটের পাশ গড়িয়ে প্রায়ই পানের রস পড়েতার তিনটা বেত এক সাথে বাঁধা একটা ডান্ডা আছে, সেটা মাঝে মাঝে কেবল টেবিলের ওপর আছড়ে পড়ে, এটাই তার ধমকখুব বিরক্ত হলে তিনি এই কাজটি করেননা হলে তার মতো মাই ডিয়ার শিক্ষক কম আছে আজ প্রথমেই বললেন-বাড়ির কাজ কে কে আনে নাই?
কেউ হাত তুললো না
-আহ্‌
সূর্য মনে হয় আজকাল পশ্চিমে উঠছে, নাকি?
-জ্বি স্যার
তানজিলা বলল
-আমি কৃতার্থ বোধ করতেছি

-তাহলে মিষ্টি আনান স্যার
তানজিলা ফটাফট বলে
-শোন্‌
, এক স্থানে দুইজন রসিক থাকলে বেপারটা বেরসিক হয়ে যায়রসিকতা যা করার আমিই করতেছি
-জ্বি আচ্ছা স্যার

-বাবা সঞ্জু

ব্যাচের সবচেয়ে বোকা ছাত্রটি বলল-জ্বি স্যার
?
-সব অংক মিলেছে?
-না স্যার
-কয়টা মিলেছে
?
-একটাও না

-কষ্ট করে হোমওয়ার্কের খাতাটা আনার কি দরকার ছিল? পরক্ষণেই তার গলা এক ধাপ উঠে গেল-শোনো বাবা মা-রা আর মাত্র কয়েক মাস আছেপ্রি-টেস্ট, টেস্ট পরীক্ষা তারপর কেয়ামতজীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাএখন তোমরা যতো খাটবা, ভবিষ্যৎ ততো উজ্জ্বল হবেএবং আরো একটা লাভ হবে, সেটা হল এই দশ পনেরো ঘণ্টার খাটুনিটা তোমাদের সারাজীবনের পুঁজি হয়ে যাবেএইটা তোমাদের অ্যাসেট হয়ে থাকবে, বাবারা বুঝছ কি বলতেছি?
সবাই
mg¯^‡i বলল-জ্বি স্যার
-তিনা আসে নাই আজকেও
?
-না স্যার

-এই মেয়েটা-তিনি এরপর বিড়বিড় করে কিছু একটা বললেন তা কেউ শুসতে পেল না
                 

 সাত
সে কিছু কিছু জিনিস টের পায়আর কিছু কিছু ব্যাপার যখন তখন ওর মনে আর মাথায় উঁকি দিতে চায়, মাঝে মাঝে দিয়েও যায় কিন্তু তা খুব অস্পষ্ট মনে হয়! কী যেন একটা তার ছিল, এখন নেইসেটা যে কী-তা আর স্মরণে আসে নাতার মাথায় হঠাৎ হঠাৎ যন্ত্রণা হয়, তীব্র সেই ব্যথা, সে আছড়ে পড়ে মাটিতে গোঙাতে থাকে, মুখে ফেনা ভাঙ্গেঅন্য পথের মানুষেরা কেবল একবার দেখেই মুখ ফিরিয়ে নেয় তখনচলে যায়কাছে আসে না কেউ
যা সে টের পায় সেগুলো মোটা দাগে বাধা
যেমন- ক্ষিধে, ঠাণ্ডা, গরম, ব্যথা আর ব্যথা না থাকাতার স্মৃতি খুব দুর্বল তাই তার মনে নেই সে যখন এই শহরে এসেছিল তখন গরমকাল ছিলঠাণ্ডা ঋতু এসে এর মধ্যে চলেও গেছেএখন আবার গরম আরেকটি জিনিস সে অনুভব করতে পারে, যদিও এর নাম জানে নাসে যখন গান গায় তখন অনুভব করে তাআনন্দ ¯^vfvweK প্রতিক্রিয়ার মতো তার গান আসেআর গানের মতো কথাযদিও চুপ করেই কাটে তার সিংহভাগ সময়কিন্তু মাঝে মাঝে সে গাইতে আরম্ভ করেজগতের আর যা কিছু তার মনে আছে সব ভুলে
আজ তার ঘুম ভেঙ্গেছে কড়া রোদের আঁচে
সে ফুটপাথে শুয়ে ছিল, ওখানে অনেকগুলো রিকশা দাঁড়িয়ে থাকে সকাল সাতটা থেকেতা ওরা দাঁড়িয়ে থাকলেও ওর ঘুমে তেমন সমস্যা হয়নিযদিও ঘুমের ভিতর সে হাত নেড়ে কানের পাশ থেকে শব্দ সরাবার চেষ্টা করেছিল কয়েকবারনিজের  অজ্ঞাতেতবু, এটা এই অসুবিধাটা সামান্য, ধরার মতো না
সে একজন দয়ালু মানুষের মুখ খুঁজছে
দুদিন হলএকটি মানুষ, তাকে অমৃতের মতো খাদ্য দিয়েছিল মমতা ভরেকিন্তু ওটা সব ভালো জিনিসের মতো শুধু একবারই ঘটেছে, মুখটাও সে মাত্র দুদিনেই প্রায় ভুলে গেছে, শুধু অস্পষ্টভাবে মনে আছে দাড়িঅলা এক মুখএই পর্যন্ত
খোঁজার বোধটা শুধু রয়ে গেছে ওর কাজে কর্মে

লাল কুকুরটা অনেক্ষণ ওকে শুকেছে
শুঁকে টুকে এখন পাশে গিয়ে শুয়ে পড়েছে
সে চোখ খুলে কিছুক্ষণ সূর্যটাকে একদৃষ্টিতে দেখার চেষ্টা করে
পারে না, সেকেণ্ডের মধ্যেই আপনা আপনি ওর চোখের পাতা বন্ধ হয়ে যায়সে দুআঙ্গুলে জোর করে পাতা খুলে রাখার চেষ্টা করে একসময়কোনো কাজ হচ্ছে নাচোখের পাতা কিছুতেই খোলা থাকবে না যেন পণ করেছেসেও খেলার মতো করে চেষ্টা করে যাচ্ছেঅনেকক্ষণ পর সে একসময় ক্ষান্ত দিল চোখের পাতাকেএদিক ওদিক তাকাল, ফুটপাথে বেশ লোকজন আসছে যাচ্ছেএক ইয়া মোটা মহিলা হাতে থলে নিয়ে তাকে পার হচ্ছিলেন, সে হঠাৎ ঐ মহিলার পিছনে হাঁটতে আরম্ভ করলো উঠে দাঁড়িয়েএকইরকমভাবে কোমর লাড়িয়ে, ব্যাগটা ধরা হাতের মতো নিজের হাত আগুপিছু করতে করতেকয়েকজন পথচারি হেসে উঠল এই দৃশ্য দেখেকিন্তু বেশিদূর তা করা গেল নাকারণ সব মেয়েদের মতো এই মহিলারও মাথার পেছনে একটা অতিরিক্ত চোখ আছেতিনি টের পেয়ে পিছু ফিরলেনতার কটমটে চোখের সামনে পাগলটা প্রায় সাথে সাথেই রণে ভঙ্গ দিল
কুকুরটা তার থাবার ভিতর কাল রাতে বাজার থেকে আনা হাড্ডি একটা চাটছে
, তার এক চোখ পাগলটার ওপরলোকটা এদিকে আবার ফিরে আসছে দেখে সে একটু সতর্ক হয়কিন্তু ও কুকুরটাকে ফেলে এগিয়ে গেল
পেটে কিছু দেয়া দরকার
, ক্ষিদেয় জ্বলছেযে মানুষটা অন্য জগতে থাকে, বেশিরভাগ জিনিসেরই নাম বা মর্ম জানে না, সেও খাবার দেখলে কিভাবে বুঝে ফেলে যে তা ওর ক্ষুধার নিবৃত্তি ঘটাবে এ এক আশ্চর্যসে লাঠিটা ঘোরাতে ঘোরাতে কিছু দূর হেঁটেই কলাকে খাদ্য বলে শনাক্ত করতে পারল এবং দোকানি তেড়ে আসার আগেই তিন চারটা কলা তার হাতে চলে এলসে দৌড় দিয়েছেএই কাজটা সে খুব ভালো পারে এই এলাকাটা বেশ ভালোইতার খুব পছন্দ হচ্ছেকিন্তু সুখ বেশিক্ষণ কারো সহ্য হয় না, তার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হল না


দুঃখিত, আপনার অনুসন্ধানের কোন ফলাফল পাওয়া যায়নি।